Logo
সর্বশেষ :
স্বজনের মৃত্যুতেও মন গলেনি সন্ত্রাসীদের : এলডিপি কর্মীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, শিশুসহ ৩ জন আহত শ্রীমঙ্গলে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন মুন্না শিকলে বাঁধা অবস্থায় মাদরাসা পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী উদ্ধার মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারালেন মৌলভীবাজারের মুহিবুর বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্টারনেট সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারসহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলি হবিগঞ্জে হাওরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জবাসী

স্বজনের মৃত্যুতেও মন গলেনি সন্ত্রাসীদের : এলডিপি কর্মীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, শিশুসহ ৩ জন আহত

নোয়াখালী প্রতিনিধি : / ৯
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমান উল্যাপুর ইউনিয়নের এক এলডিপি কর্মীর বসতঘরে সন্ত্রাসী হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন এলডিপি কর্মী কাজী শাহাদাত হোসেনের শিশু কন্যা সাওদা নূর সুবহা, তার স্ত্রী আরিফা রহমান এবং বাবা কাজী সহিদ উল্যা।

সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমান উল্যাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী ঘরের বাসিন্দা কাজী মিহজুল ইসলাম, বিলকিস আক্তার, হাছিনা আক্তার, ফারুল আক্তার ও সেলিনা আক্তার জানান, রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কাজী শাহাদাত হোসেনের বসতঘরের সামনে ৮-১০ টি মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসীরা হাজির হয়। এসময় তারা ঘরের দরজার সামনে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে কাজী শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে বলতে শুনা যায়, ‘আজ তোর দাদার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি আসছিস, তোকেও আজ মেরে ফেলবো’ – এই বলে তারা চিৎকার করতে থাকে এবং ঘরের দরজা খোলার জন্য বাধ্য করে। পরে তারা ঘরের ভিতর প্রবেশ করে কাজী শাহাদাত হোসেনকে খুঁজতে থাকে। তাকে খুঁজে না পেয়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কাজী শাহাদাত হোসেনের শিশু কন্যা, তার স্ত্রী এবং বাবাকে মারধর করলে মারাত্মকভাবে আহত হন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা কাজী শাহাদাত হোসেনের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের দেওয়া আগুনে মূহুর্তে পুরো বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী বিলকিস আক্তার ও ফারুল আক্তার জানায়, দাহ্যপদার্থ নিক্ষেপের কারণে আগুনে তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং যা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। মুহূর্তে কাজী শাহাদাত হোসেনের সম্পূর্ণ বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আহত অবস্থায় কাজী মাহবুব আলম, কাজী আলমগীর হোসেন ও সেলিনা আক্তারের সহযোগিতায় শাহাদাত হোসেনের আহত স্ত্রী, শিশু কন্যা এবং বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কাজী মিহজুল ইসলাম জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত সন্ত্রাসীদের মধ্যে দেলোয়ার, ডিজে ফয়সাল, জুয়েল আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করে। আগুনের কুন্ডলী উপরের দিকে উঠতে দেখে আশেপাশের মানুষজন ছুটে আসেতে থাকে। চারদিক থেকে মানুষের আসার পরিস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা ত্যাগ করার চেষ্টা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম ও বেগমগঞ্জ থানার পুলিশকে মুঠোফোনে জানায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইয়াসিন আলী ও মো: জামাল উদ্দিন বলেন, থানায় জানানোর প্রায় ১ ঘন্টা পর ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম সহ বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। চেয়ারম্যান এবং বেগমগঞ্জ থানার এস.আই মো: খোরশেদ আলম আসার পর তারা সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে আটক না করে কৌশলে ছেড়ে দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে ছেড়ে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বাহারুল আলম চেয়ারম্যান দেলোয়ারকে তাদের বিএনপি’র লোক বলে পরিচয় দেন। বেগমগঞ্জ থানার এস.আই মো: খোরশেদ আলম উপস্থিত লোকজনকে এব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন এবং কথা বাড়ালে উল্টো মামলা দিয়ে আটক করা হবে বলে ধমক দেন।
কাজী শাহাদাত হোসেনের মা নারগিস আক্তার মুঠোফোনে জানান, গতকাল ১লা জুন আমার শ্বশুরের মৃত্যুর খবর শুনে আমার  পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনী শেষবার দেখার জন্য আমাদের বাড়িতে ছুটে আসে। এই খবর বিএনপির সন্ত্রাসীরা কোনভাবে জানতে পেরে রাত ৯ টার দিকে বাড়িতে এসে তাদের  মারধর ও বসত ঘরে  অগ্নিসংযোগ করে। কাজী শাহাদাত হোসেনের বাবা এসময় নাতি-নাতনি ও পুত্রবধূকে বাঁচাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে শাহাদাতের স্ত্রী, শিশু কন্যা ও বাবা গুরুতর আহত হয়। এখনো তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

 

মুঠোফোনে স্ত্রী আরিফা রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, থানায় আগেও বারবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। আমার স্বামী বিরোধী দলের রাজনীতি করেন এটা কি আমাদের অপরাধ? অগ্নিসংযোগের পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে এলাকাবাসী আটকে রাখলেও পুলিশ এবং চেয়ারম্যান এসে আটক সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছে। তাই প্রশাসন এবং চেয়ারম্যানের উপর কোন রকম আস্থা রাখতে পারছেন না বলে তিনি জানান। সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী হওয়ায় তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এই মুহূর্তে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে আছে বলে তিনি জানান।


আরও পড়ুন
Theme Created By ThemesDealer.Com
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।