রাশিয়াতে উচ্চ শিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর। পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে সেখানে যুদ্ধে জড়িয়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন মুহিবুর রহমান। সপ্তাহখানেক আগে মারা গেলেও বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে।
মুহিবুর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মসুদ মিয়া। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আমতৈল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. ইকবাল আহমদ।
পরিবারের বরাতে ইউপি সদস্য মো. ইকবাল আহমদ জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়াতে পাড়ি জমান মুহিবুর। কিন্তু সেখানে লেখাপড়া শেষ হয়ে গেলে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে তার জীবন। এই সংকটময় সময়ে দালাল চক্র তাকে টার্গেট করে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে এমন প্রলোভন দেখায়। এরপর রাশিয়ায় গিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেন এবং তাকে পাঠানো হয় সম্মুখ যুদ্ধে। দীর্ঘদিন রুশ বাহিনীর হয়ে লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
তিনি পরিবারের বরাতে আরও জানান, বাংকারে অবস্থান করার সময় ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুহিবুর। রাশিয়ান সেনাদের জন্য খাবার সরবরাহকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথমে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়।
তবে মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা ভেঙ্গে পড়েছেন। তারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন না। ২০২৫ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরেন মুহিবুর। পরে বিয়ে করলেও ১৫ দিনের মাথায় আবারো রাশিয়ায় যান। গত ৮ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ হওয়ায় তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান ঢাকাস্থ রাশিয়া দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে কোনো সন্ধান দিতে পারে নি। সবশেষে সম্প্রতি মুহিবুর রহমানের বন্ধু রাজন আহত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে মেহেদি হাসান নামে একজনকে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি জানায়। মেহেদি হাসানকে খবরটি মুহিবুরের পরিবারকে জানাতে বললে শুক্রবার মেহেদি হাসান মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে জানায়।