টেকনাফে বিজিবি নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
২৫ জুন সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটা দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন, টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮ টা থেকে বেলা ১১ টার পর্যন্ত টেকনাফ সদর লামার বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে থাইল্যান্ডে তৈরি এবং মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা মোট ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, গত প্রায় দুই মাস ধরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অবৈধ কারেন্ট জাল মজুদ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল টেকনাফ বাজারের কয়েকটি গুদামে গোপনে মজুদ রাখা হয়েছে।
উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিজিবি, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে লামার বাজার এলাকার চারটি গুদামে একযোগে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ কারেন্ট জাল দেশের মৎস্যসম্পদ, বিশেষ করে পোনা মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে।
উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হোসেন চৌধুরী, টেকনাফ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওবায়দুল হক এবং নৌ-পুলিশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।