Logo
সর্বশেষ :
সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, ‘খালাস পেলেন আরিফ, গউছ, বাবর টেকনাফে বিজিবির যৌথ অভিযানে আড়াই কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার জেলা প্রশাসকের ‘বড় ভাই’ পরিচয়ে প্রতারণা, অর্থ লেনদেনের সময় আটক ২ শার্শা সীমান্তে বজ্রপাতে টহলরত দুই বিজিবি সদস্য আহত মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার সকল স্কুল-কলেজে মোবাইল নিষিদ্ধ করল প্রশাসন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে হত্যা ও মাদক চোরাচালান বাড়ছে: জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল পটুয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজের দুই দিন পর জেলের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার শরীয়তপুরে লেবু পাড়তে গিয়ে সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, ‘খালাস পেলেন আরিফ, গউছ, বাবর

সিলেট প্রতিনিধি : / ৮
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আসামিদের বেকসুর খালাস প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে এ মামলায় একজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়াতে মৃত্যদণ্ড দিয়েছে আদালত।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন।

 

পিপি বলেন, ‘‘সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসের আদেশ দেন। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলার একমাত্র আসামি হাফিজ নাঈম নিমুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে পিপি মো. আবুল হোসেন জানান।

 

খালসপ্রাপ্তরা অন্যরা হলেন- মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা, মো. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট, মো. নাজিউর রহমান নাজু ওরফে নাজমুল হক নাজু ওরফে নাজিমুল হক ও মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। আর খালসপ্রাপ্ত অপরজন আব্দু সালামের মৃত্যু হয়েছে।
আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। এর মধ্যে ৩ জনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে ৩টি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়; পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’’

 

আদালতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘অন্যায়ভাবে এই মামালায়, আমাদেরকে যড়ষন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন হয়রানি করা হয়েছে। আমরা কারাবরণ করেছি, আজকে আমরা নিদোর্ষ প্রমাণিত হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি আমরা।’’সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘‘আজকে যে গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার পর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই আজকে কোর্ট স্বাধীনভাবে সত্যের ভিত্তিতে এই মামলাটি নিষ্পতি করেছেন। এবং স্বাক্ষীর ভিত্তিতে মামলাটি নিষ্পতি করেছেন আদালত। আজকে আমারা বেকসুর খালাস পেয়েছি। সাড়ে ২৬ মাস আমি এবং আরিফ ভাই এই মামলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করেছি।’’

 

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা অনুরোধ করব রাজনৈতিক কারণে যারা মানুষকে ক্ষতি করে, যেমন নেতা ইলিয়াস আলী আজকে আমাদের মধ্যে নেই, উনার ভাগ্যে কি ঘটেছে আমরা জানি না। শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারণে  ইলিয়াস আলী আমাদের মধ্য থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আমাদের যত মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, আরও মিথ্যা মামলা রয়েছে আমাদের নামে, অন্যান্য ভাইদের নামে রয়েছে। আমরা সকলে যেন ন্যায় বিচার পাই।’’

 

সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘‘আজকে দীর্ঘদিন হলেও ন্যায় বিচার প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা জানেন আমাকে ধরা হয়েছিল ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায়, যাতে আমাদের তখনকার দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে এবং জনাব তারেক রহমানের নামে মিথ্যা স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য। আমি মিথ্যা স্বাক্ষী দেয়নি, তখনকার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অন্য যারা টিমে ছিলেন, তারা আমাকে বলেছিলেন আপনি যদি কোনোভাবে আমাদের কথামত কাজ না করেন, আপনাকে সবগুলো মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে এবং যতগুলো গ্রেনেড মামলা আছে, সবগুলোতে জড়িত করা হবে। সেটারই ধারাবাহিকভাবে আমাকে দশ ট্রাক মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। দেখেন সিলেটের যেটার সাথে আমি বা গউছ, আরিফ কেউ জড়িত না। ওই একই কারণে আমাদেরকে আসামি করা হয়েছে। আল্লাহর দুনিয়া অনেক বড়, আল্লাহর বিচার হয়েছে। আজকে দেখেন শেখ হাসিনা কোথায়, আর আমরা কোথায়।’’

 

২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান এ আওয়ামী লীগ নেতা।

 

তবে গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন।

 

সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার করা দুটি মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।


আরও পড়ুন
Theme Created By ThemesDealer.Com
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।