Logo

নোয়াখালীতে এলডিপি কর্মীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, শিশুসহ ৩ জন আহত

নোয়াখালী প্রতিনিধি : / ৩
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমান উল্যাপুর ইউনিয়নে এলডিপি কর্মী কাজী শাহাদাত হোসেনের বসতঘরে সন্ত্রাসী হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কাজী শাহাদাত হোসেনের শিশু কন্যা সাওদা নূর সুবহা, তার স্ত্রী আরিফা রহমান এবং বাবা কাজী সহিদ উল্যা।

সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমান উল্যাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী ঘরের বাসিন্দা কাজী মিহজুল ইসলাম, বিলকিস আক্তার, হাছিনা আক্তার, ফারুল আক্তার ও সেলিনা আক্তার জানান, রাত আনুমানিক নয়টার দিকে কাজী শাহাদাত হোসেনের বসতঘরের সামনে ৮-১০ টি মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসীরা হাজির হয়। এসময় তারা ঘরের দরজার সামনে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে কাজী শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, ‘আজ তোর দাদার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ি এসেছিস, তোকেও আজ মেরে ফেলবো’ – এই বলে তারা চিৎকার করতে থাকে এবং ঘরের দরজা খোলার জন্য বাধ্য করে। পরে তারা ঘরের ভিতর প্রবেশ করে কাজী শাহাদাত হোসেনকে খুঁজতে থাকে। তাকে খুঁজে না পেয়ে বিএনপির সন্ত্রাসীরা কাজী শাহাদাত হোসেনের শিশু কন্যা, তার স্ত্রী এবং বাবাকে মারধর করলে মারাত্মকভাবে আহত হন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাদের দেওয়া আগুনে মূহুর্তে পুরো বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে কাজী মাহবুব আলম, কাজী আলমগীর হোসেন ও সেলিনা আক্তারের সহযোগিতায় শাহাদাত হোসেনের আহত স্ত্রী, শিশু কন্যা এবং বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী কাজী মিহজুল ইসলাম জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত সন্ত্রাসীদের মধ্যে দেলোয়ার, ডিজে ফয়সাল, জুয়েল আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে যোগদান করে। আগুনের কুন্ডলী উপরের দিকে উঠতে দেখে আশেপাশের মানুষজন ছুটে আসার পরিস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাহারুল আলম ও বেগমগঞ্জ থানার পুলিশকে মুঠোফোনে জানায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইয়াসিন আলী ও মো: জামাল উদ্দিন বলেন, থানায় জানানোর প্রায় ১ ঘন্টা পর ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম সহ বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। চেয়ারম্যান এবং বেগমগঞ্জ থানার এস.আই মো: খোরশেদ আলম আসার পর তারা সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে আটক না করে কৌশলে ছেড়ে দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে ছেড়ে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বাহারুল আলম চেয়ারম্যান দেলোয়ারকে তাদের বিএনপি’র লোক বলে পরিচয় দেন। বেগমগঞ্জ থানার এস.আই মো: খোরশেদ আলম উপস্থিত লোকজনকে এব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন এবং কথা বাড়ালে উল্টো মামলা দিয়ে আটক করা হবে বলে ধমক দেন।

 

মুঠোফোনে স্ত্রী আরিফা রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, থানায় আগেও বারবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। আমার স্বামী বিরোধী দলের রাজনীতি করেন এটা কি আমাদের অপরাধ? অগ্নিসংযোগের পরে ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে এলাকাবাসী আটকে রাখলেও পুলিশ এবং চেয়ারম্যান এসে আটক সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দিয়েছে। তাই প্রশাসন এবং চেয়ারম্যানের উপর কোন রকম আস্থা রাখতে পারছেন না বলে তিনি জানান। সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী হওয়ায় তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এই মুহূর্তে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে আছে বলে তিনি জানান।

 

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আগুন কারা লাগিয়েছে তদন্ত চলছে। দেলোয়ারকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এব্যাপারে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কলটি কেটে দেন।


আরও পড়ুন
Theme Created By ThemesDealer.Com
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।
© অনুমতি ছাড়া কপি করবেন না। কপি না করে নিজে লিখুন।