ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তালাকের কথা শুনে অভিমানে ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নাওঘাট মহন মিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারজানা আক্তার নাওঘাট পূর্বপাড়ার মিন্টু মিয়ার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে সাচ্চু মিয়ার (২৭) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাচ্চু মিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ফারজানার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী তালাকের কথা বললে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ ঘরের টিনের রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে তার মেয়েকে স্বামী সন্দেহ করতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। মঙ্গলবার ফোনে কথা বলার সময় তার মেয়েকে ‘দুই তালাক’ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর অভিমানে ফারজানা আত্মহত্যা করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।