মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সম্পাশী গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রেজাউল করিমের পৈত্রিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে, জাতীয় শোক দিবসের দিন। মৃত লাল মিয়ার বাড়িতে অতর্কিত এ হামলায় ঘর পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সরকারপন্থী মন্তব্য ও লেখালেখি করে আসছিলেন। এ কারণে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর থেকে মৌলভীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় প্রবাসে থাকা আওয়ামী লীগপন্থীদের বাড়িতে একের পর এক হামলা চালানো হয়। ১৫ আগস্টের হামলাও ছিল এই ধারাবাহিকতার অংশ।
ভুক্তভোগী রেজাউলের মা সাহিদা বেগম বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে থাকে। আমি গ্রামের বাড়িতে একা ছিলাম। হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন যুবক এসে হামলা চালায়। আমার ছেলেকে খুঁজতে থাকে। না পেয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, ঘরের মালামাল লুটে নেয়। আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও আমার ছেলেকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বলছে, রেজাউল দেশে ফিরলে এবার আর বাঁচবে না।”
উল্লেখ্য, রেজাউল করিম মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে দেশত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর কয়েকদিন পুলিশের রুটিন দায়িত্বে কিছু ঘাটতি ছিল। এ সুযোগে কিছু লোক রাজনৈতিক প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে প্রবাসীদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”